টেকসই ডিজিটাল সংযোগ ও তথ্য সুরক্ষায় জোর সৌদি আরবের
গালফ সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর মধ্যে টেকসই ডিজিটাল সংযোগ ও তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সৌদি আরব।
মূল বিষয়
AIগালফ সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর মধ্যে টেকসই ডিজিটাল সংযোগ এবং তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমন্বিত কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। এতে গালফ অঞ্চলের কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বাহরাইনে অনুষ্ঠিত গালফ সহযোগিতা পরিষদের ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রীদের ৩০তম বৈঠকে সৌদি আরবের বক্তব্যে এ আহ্বান জানান দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-সাওয়াহ।
মন্ত্রী বলেন, বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় সৌদি আরব গালফভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিত অগ্রগতিতে কাজ করছে। তিনি জানান, এই উদ্যোগ তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—
ডিজিটাল স্থিতিশীলতা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নেতৃত্বে উত্তরণ।
তথ্য সুরক্ষার পাশাপাশি শক্তি ও কম্পিউটিং সমন্বয়।
উদ্যোক্তা বাজার গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ানো।
আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ও সংযোগ প্রস্তাব
আল-সাওয়াহ জানান, সৌদি আরব তার অবকাঠামো ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে গালফ অঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে। এ জন্য ৮.৪ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডের বেশি আন্তর্জাতিক সক্ষমতা যোগ করা হয়েছে এবং ধারণক্ষমতা ৮০% বাড়িয়ে ১৮ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডে উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব টেকসই ডিজিটাল সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের আদলে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে গালফ অঞ্চলে যৌথ ও টেকসই ডিজিটাল স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
কম্পিউটিং ও বাজার
শক্তি ও কম্পিউটিং সমন্বয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব ১৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতাসহ বিভিন্ন স্থানে ডেটা সেন্টার স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে, যা দেশটি, গালফ অঞ্চল ও বিশ্বকে সেবা দিচ্ছে। তিনি এই খাতে টেকসই সহযোগিতার মডেল গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, গালফভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বাজার উন্মুক্ত করা এবং মান ও নীতিমালা সমন্বয় জরুরি, যাতে তারা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে যেতে পারে। তিনি জানান, গালফ অঞ্চলে ২০টির বেশি ইউনিকর্ন কোম্পানি রয়েছে এবং এ অঞ্চলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগের ৯৫% কেন্দ্রীভূত, যা উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনের বিশাল সুযোগের ইঙ্গিত দেয়।
আল-সাওয়াহ বলেন, সামনে গালফ দেশগুলোকে তথ্য, কম্পিউটিং, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় একীভূতভাবে কাজ করতে হবে। আন্তঃসংযুক্ত অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে নাগরিক ও কোম্পানিগুলো সহজেই সেবা নিতে পারে। তিনি যোগ করেন, বিদ্যমান সক্ষমতা সংযুক্ত ও সমন্বিত হলে গালফ দেশগুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও জোরদার হবে।
