সৌদি আরবে খেজুর কারখানার সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে কাসিম
কাসিম অঞ্চলে বছরে ৫ লাখ টনের বেশি খেজুর উৎপাদন হয় এবং এখানে ২৫টি বিশেষায়িত কারখানা রয়েছে।
মূল বিষয়
AIকাসিম অঞ্চল সৌদি আরবে খেজুর কারখানার সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখানে প্রায় ২৫টি কারখানা রয়েছে, যেগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩৯০,০০০ টনের বেশি। এ তথ্য দিয়েছে পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাসিম শাখা।
খেজুর ও খেজুর গাছের উৎপাদনে কাসিমের অবস্থান শীর্ষে। এখানে উৎপাদনের ভিত্তি বিস্তৃত এবং জাতের বৈচিত্র্যও অনেক। ২০২৬ সালের জাতীয় খেজুর ও খেজুর গাছ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কাসিমে বছরে ৫৮৪,১২৭.৮ টন খেজুর উৎপাদিত হয়। এখানে ১৩,৪০৩টি কৃষি খামারে ১ কোটি ৮৭ লাখের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে।
কাসিমে খেজুর খাতের গুরুত্ব শুধু কৃষি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; এখানে কারখানা, ছাঁটাই ও প্যাকেজিং কেন্দ্র, মৌসুমি বাজার, পরিবহন ও সংরক্ষণ, লজিস্টিকস এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিপণন—সবকিছুই রয়েছে। খেজুরের প্রক্রিয়াজাত শিল্প কাসিমে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের অন্যতম বড় ক্ষেত্র। সৌদি আরবের ২০৩০ ভিশনের আলোকে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং আয়ের উৎস বৈচিত্র্যে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ
কাসিমে খেজুর প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ছাঁটাই, শ্রেণিবিন্যাস, পরিষ্কার, শুকানো, প্যাকেটজাতকরণ ছাড়াও খেজুরের পেস্ট, খেজুরের সিরাপ, জুস, পানীয়, চিনি, ভিনেগার, খেজুরের গুঁড়া, বেকারি ও মিষ্টান্নজাত পণ্য, ভরাট ও মোড়ানো খেজুর উৎপাদন হয়। এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল।
খেজুরের পেস্ট বেকারি, মিষ্টান্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবারে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম বাজারমূল্যের খেজুর থেকে ভিনেগারসহ নানা পণ্য তৈরি হয়, যা ফসলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং অপচয় কমায়।
বৃত্তাকার অর্থনীতি ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা
খেজুর প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বৃত্তাকার অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাজারে বিক্রয়যোগ্য নয় এমন খেজুর ও খেজুর বিচি থেকে পশুখাদ্য, তেল, শিল্পজাত পণ্য ও জৈব জ্বালানি উৎপাদন হচ্ছে। কাসিমে উৎপাদন চেইনের বেশিরভাগ ধাপ স্থানীয়ভাবে সম্পন্ন হয়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য অঞ্চলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
এই শিল্পগুলো কাসিমের আঞ্চলিক জিডিপি বাড়াতে, কৃষকদের আয় বাড়াতে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে, লজিস্টিকস খাত উন্নত করতে, ই-কমার্স ও রপ্তানি বাড়াতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও আয়ের উৎস বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
