রিয়াদে ২৫তম বিশ্ব পেট্রোলিয়াম সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রিন্স আবদুলআজিজ
রিয়াদে ২৫তম বিশ্ব পেট্রোলিয়াম সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ, যেখানে বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
মূল বিষয়
AIআজ রিয়াদে সৌদি আরবের জ্বালানি, শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান ২৫তম বিশ্ব পেট্রোলিয়াম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এই প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সম্মেলনটি, যার প্রতিপাদ্য 'সবাইয়ের জন্য জ্বালানির ভবিষ্যতের পথ'। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি আরব ও বিশ্বের শীর্ষ নির্বাহী, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই সম্মেলন। এতে জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সরবরাহ নিরাপত্তা, বাজার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন—নিয়ে আলোচনা হবে। এতে খাতটির শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে অংশ নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রিন্স আবদুলআজিজ সৌদি আরবের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন—সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দায়িত্ব পালনে দেশটি অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, অল্প সময়ে সৌদি আরবে বড় পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে। সৌদি আরব বহু বছর ধরে অবকাঠামো, রিজার্ভ সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও সরবরাহ চেইনে বিনিয়োগ করেছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়করণ ব্যবসা ও সরবরাহ চেইন সংকটে টিকে থাকার কৌশলগত সক্ষমতা তৈরি করে। টেকসইতা নির্ভর করে, কোনো ব্যবস্থা কত দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও বিকল্প সরবরাহ করতে পারে তার ওপর। প্রিন্স আবদুলআজিজ জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাতের রূপান্তর পাশাপাশি এগোতে হবে। সৌদি আরব পেট্রোলিয়াম, গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং মানব ও শিল্প সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে—সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায়।
সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক প্রত্যাশা
বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের সভাপতি পেদ্রো মিরাস সৌদি আরবের বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনে নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিশ্ব নতুন প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিরাস আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটালাইজেশন, নতুন জ্বালানি ও কার্বন সংরক্ষণ প্রযুক্তি জ্বালানির ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
সম্মেলনের কর্মসূচি ও অন্যান্য আয়োজন
সম্মেলনের কর্মসূচিতে রয়েছে মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ, কৌশলগত ও কারিগরি অধিবেশন—বাজারের পরিবর্তন, বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা।
সম্মেলনের পাশাপাশি ৫০,০০০ বর্গমিটার জুড়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ ও শীর্ষ কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া 'রিয়াদ জ্বালানি সপ্তাহ'-এর অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি মন্ত্রীদের বৈঠক ও 'ইনোভেশন মিশন' উদ্যোগের আয়োজনও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংলাপ ও অংশীদারিত্বের মঞ্চ
উল্লেখ্য, বিশ্ব পেট্রোলিয়াম সম্মেলন ১৯৩৩ সাল থেকে ডব্লিউবিসি এনার্জি আয়োজন করছে। এতে ৬০টির বেশি দেশ অংশ নেয়। এটি জ্বালানি খাতে সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এবারের সম্মেলনে সৌদি আরামকো, কিং আবদুল্লাহ পেট্রোলিয়াম স্টাডিজ ও গবেষণা কেন্দ্র (ক্যাপসার্ক), সাবিক, সৌদি এনার্জি, সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।
