বুরাইদা কার্নিভালে সৌদি খেজুরের অর্ধেকই আসে কাসিম থেকে
বুরাইদা আন্তর্জাতিক খেজুর কার্নিভাল তুলে ধরছে কাসিম অঞ্চলের অগ্রণী ভূমিকা, যেখানে উৎপাদিত হয় সৌদি আরবের প্রায় ৫০% খেজুর।
মূল বিষয়
AIবুরাইদা আন্তর্জাতিক খেজুর কার্নিভাল তুলে ধরছে কাসিম অঞ্চলের অগ্রণী অবস্থান, যেখানে উৎপাদিত হয় সৌদি আরবের মোট খেজুরের প্রায় ৫০%। এই সাফল্য এসেছে কৃষি অবকাঠামো, সরকারি সহায়তা এবং চাষ ও উৎপাদন পদ্ধতির ধারাবাহিক উন্নতির ফলে।
কার্নিভালের কমিটির সচিব ও প্রধান নির্বাহী ড. খালেদ নাকিদান জানান, কাসিমে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ খেজুর গাছ, যা থেকে বছরে ৫ লাখ ৮০ হাজার টনের বেশি খেজুর উৎপাদিত হয়। ফলে কাসিম সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ খেজুর উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এতে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হচ্ছে, কারণ খেজুর একটি কৌশলগত খাদ্যপণ্য, যা কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক।
তিনি জানান, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সমন্বিত উদ্যোগ, যার মধ্যে রয়েছে কাসিম প্রদেশের প্রশাসন, পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি সংস্থাগুলোর সরাসরি সহায়তা। এছাড়া, অঞ্চলটির উর্বর জমি, উপযোগী পানি ও আদর্শ কৃষি পরিবেশ খেজুর চাষে সমৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
নাকিদান আরও বলেন, কৃষকদের যত্ন ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিয়মিত পরিচর্যার ফলে উৎপাদন দক্ষতা ও খেজুরের মান বেড়েছে। এতে কাসিম খেজুর চাষ ও উৎপাদন উন্নয়নে জাতীয় মডেল হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, বুরাইদা আন্তর্জাতিক খেজুর কার্নিভাল বিশেষভাবে খ্যাতি পেয়েছে 'সুক্কারি' জাতের খেজুর বিপণনে, যা কার্নিভাল মৌসুমে উৎপাদিত খেজুরের ৮৫% এর বেশি। এই জাতের খেজুর উচ্চমান, স্বাদ ও সংরক্ষণ ও পরিবহনে সহজ হওয়ায় দেশি-বিদেশি বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বিক্রি বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, খেজুর খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যান্ত্রিকীকরণ, ফল সংগ্রহের উন্নত পদ্ধতি এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ওপর, যা পানির ব্যবহার কমিয়ে উৎপাদনের মান ও পরিমাণ ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ খেজুর গাছের উৎপাদনশীলতা, খেজুরের মান এবং পানিসম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক। কৃষি পদ্ধতি ও যান্ত্রিকীকরণ যত উন্নত হবে, উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
বুরাইদা আন্তর্জাতিক খেজুর কার্নিভাল সৌদি আরবে খেজুর বিপণন ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এটি উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের একত্রিত করে, সৌদি খেজুরের অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ায় এবং কাসিমকে খেজুরের রাজধানী ও কৃষি অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে, যা সৌদি ভিশন 2030 অর্জনে সহায়ক।
