কাসিমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর কার্নিভাল শুরু
প্রতি বছর কাসিমে বিশ্বের বৃহত্তম খেজুর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হয়, যা সৌদি আরবের খেজুর শিল্পকে বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের কাসিম অঞ্চল নিজেকে দেশের খেজুর রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখানে ১১ মিলিয়নের বেশি খেজুরগাছ রয়েছে, যা নানা জাতের উৎকৃষ্ট খেজুর উৎপাদন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে 'সুক্কারি' খেজুর, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।
এ মর্যাদা প্রতিবছর আরও দৃঢ় হয় ব্রেইদা শহরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর কার্নিভালের আয়োজনের মাধ্যমে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা এক ছাতার নিচে মিলিত হন। এই উৎসব খেজুর শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বিপণন প্ল্যাটফর্ম, যা বাণিজ্যিক গতি বাড়ায়, জাতীয় পণ্যের মূল্য সংযোজন করে এবং খেজুর ও খেজুরজাত পণ্যের রপ্তানি ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
কার্নিভালে দেশজুড়ে উৎপাদকরা অংশ নেন এবং আধুনিক মানের বাছাই, প্যাকেজিং ও বিপণন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এতে পণ্যের গুণগত মান ও বিক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং সৌদি খেজুরের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ে।
বৈচিত্র্য ও গুণগত মান
কাসিম অঞ্চলে মিলিয়ন মিলিয়ন খেজুরগাছ রয়েছে, যা সুক্কারি, বারহি, খালাস, সাক্কি, নাবত সাইফসহ নানা জাতের খেজুর উৎপাদন করে। এসব খেজুর উচ্চ গুণগত মান ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়ছে এবং সৌদি খেজুরের রপ্তানি বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
গিনেস রেকর্ড ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
ব্রেইদা আন্তর্জাতিক খেজুর কার্নিভালের প্রধান নির্বাহী ও উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সচিব ড. খালেদ নাকিদান জানান, কাসিমে ১১ মিলিয়নের বেশি খেজুরগাছ থেকে উৎকৃষ্ট মানের খেজুর উৎপাদিত হয়। তিনি বলেন, ব্রেইদা আন্তর্জাতিক কার্নিভাল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের বৃহত্তম খেজুর উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা এ খাতে কাসিমের নেতৃত্বের প্রমাণ।
নাকিদান আরও জানান, কার্নিভাল প্রতি বছর হাজার হাজার কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও বিপণন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এতে সৌদি খেজুরের বাণিজ্যিক গতি বাড়ে, মূল্য সংযোজন হয় এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ে। তিনি জানান, সৌদি খেজুরের উচ্চ মান ও আধুনিক বাছাই, প্যাকেজিং ও বিপণন পদ্ধতির কারণে এটি এখন বহু আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে গেছে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সৌদি খেজুরকে এগিয়ে রেখেছে এবং সৌদি ভিশন 2030-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করছে।
