যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণ ও সুদের খরচ বাড়ায় এই রেকর্ড হয়েছে, যা অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মূল বিষয়
AIযুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে বুধবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য থেকে জানা গেছে। ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই রেকর্ড হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বল্পমেয়াদি বন্ড ইস্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০.০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুদের খরচ বাড়ার কারণে ঋণও বেড়েছে।
কংগ্রেসের বাজেট অফিস ধারণা করেছিল, চলতি অর্থবছর শেষে ঋণ ৩৯.৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। কিন্তু বাস্তবে ঋণ আরও দ্রুত বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ঋণ নেওয়ার খরচ বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার ৩০ বছরের যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ হয়েছে। এতে সরকারকে বেশি সুদে ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করতে হচ্ছে, ফলে ঋণের বোঝা আরও বাড়ছে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয় বাড়ানো হবে, এতে সুদের হার কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বাজেট ও করবিষয়ক গবেষক জেসিকা রিডল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাটতির বর্তমান গতি টেকসই নয়। ২০০৮ সালের সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, যা এখন জিডিপির ১২৫ শতাংশ। বর্তমানে ঘাটতি জিডিপির ৭-৮ শতাংশ, যেখানে আগে ৩-৪ শতাংশ ছিল—এতে আর্থিক বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি মনে করিয়ে দেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদেই ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট কংগ্রেসকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজেট ভারসাম্য আনার আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী স্কট বিসেন্ট বলেছেন, তার লক্ষ্য ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা, কিন্তু সম্প্রতি ঘাটতি বেড়েছে—কারণ ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করা শুল্ক ফেরত পেয়েছে কোম্পানিগুলো, সামরিক ব্যয় বেড়েছে বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে, আর কর ছাড়ে রাজস্ব কমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জিডিপির তুলনায় ঋণের কোনো নির্দিষ্ট হার নেই যা সরাসরি সংকট ডেকে আনে, তবে জনগণের হাতে থাকা ঋণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক। রিডল মনে করেন, এসব মনস্তাত্ত্বিক সূচক আর্থিক বাজারের জন্য সতর্কবার্তা। বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টারের আর্থিক নীতি পরিচালক কাইলেব কোয়াকেনবুশ জানান, ২০০৭-২০০৯ সালের আর্থিক সংকট ও কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি ঋণ বেড়েছে, কিন্তু কংগ্রেস বা প্রশাসন টেকসই সমাধান দেয়নি—নতুন কোনো সংকট এলে বড় সমস্যা হতে পারে।
