পুরোপুরি হরমুজ খুলে না দিলে তেলের বাজারে চাপ বাড়বে: আরামকো প্রধান
আরামকো প্রধান আমিন নাসের সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক তেল মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খোলা পর্যন্ত বাজারে চাপ অব্যাহত থাকবে।
মূল বিষয়
AIআরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক তেলের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে নিঃশেষ হওয়া মজুত পুনর্গঠনে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
লন্ডনে ‘এনার্জি ইন্টেলিজেন্স ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে নাসের জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের যুদ্ধের ফলে অঞ্চলটিতে প্রায় ৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে। এটি ওই সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল এমন অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের প্রায় অর্ধেকের সমান।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খোলা পর্যন্ত তেলের বাজারে চাপ অব্যাহত থাকবে। সরবরাহ ঘাটতি সামাল দিতে এক বিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল মজুত থেকে তোলা হয়েছে, আর সরকারগুলো কৌশলগত মজুত থেকে ৩০০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি ছেড়েছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহে সম্মত হয়েছে।
মজুত কমে যাওয়া ও সরবরাহের চ্যালেঞ্জ
নাসের জানান, বাজারে সহায়তার জন্য মূলত কোম্পানির মজুতই ছিল ‘শেষ বড় হাতিয়ার’। বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মজুত ৬ বিলিয়ন ব্যারেলেরও কম, যার বেশিরভাগই তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য অনুপলব্ধ।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থা ইতিমধ্যে চাপের মুখে’, এবং বাজারের সামনে বিকল্প কম থাকায় সরবরাহ নিশ্চিতে নিরাপত্তার মার্জিন খুবই সীমিত হয়ে গেছে।
জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু
নাসের জানান, আধুনিক প্রযুক্তি—যেমন স্যাটেলাইট ছবি ও জাহাজ চলাচলের ডেটাবেস—দিন দিন জ্বালানি অবকাঠামো ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালী পেরোনো জাহাজে হামলা, পাইপলাইন, শোধনাগার ও আরামকোর বন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতার সরঞ্জামগুলো যেন আগ্রাসনের হাতিয়ার না হয়’, কারণ জ্বালানি খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।
সরবরাহ সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি
নাসেরের বক্তব্যে উঠে এসেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের শিপিং রুটে তেল প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট ও চাপ বেড়েছে। ‘কেপলার’ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর রপ্তানি বেড়ে ১৫.৫ মিলিয়ন ব্যারেল হয়েছে, যা সংকট শুরুর পর সর্বোচ্চ এবং সংকট-পূর্ব সময়ের ৮০ শতাংশের বেশি।
তবে এই উন্নতির পরও নাসের বলেন, বাজারে এখনও সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। উত্তর সাগরের তেলের তাৎক্ষণিক চালানের দাম এপ্রিলের পর সর্বোচ্চে উঠেছে।
বাজার স্থিতিশীলতায় আরামকোর পরিকল্পনা
নাসের আরও বলেন, সংঘাত শেষ হলেও বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে মজুত পুনরায় পূরণে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি সরকারগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতায় অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
তিনি জানান, সৌদি তেল রপ্তানির জন্য অতিরিক্ত রুট খতিয়ে দেখছে আরামকো, পাশাপাশি দেশের বাইরে মজুত সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভবিষ্যৎ যেকোনো অস্থিরতা থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া যায়।
