তামার বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজুড়ে চাপ
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মজুদ ও চীনের বাড়তি চাহিদার কারণে বিশ্ব তামার বাজারে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মূল বিষয়
AIবিশ্ব তামার বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ মজুদ এবং চীনের বাড়তি চাহিদার ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে তামার জোগান নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দিকে আরও বেশি পরিমাণ তামা সরিয়ে নেওয়া হলে অন্য বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, তামা নিয়ে এই প্রতিযোগিতা বাজারে চাপ বাড়িয়ে দামের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, বিশেষ করে মজুদ কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে।
ব্লুমবার্গের ভাষ্য, ঐতিহ্যগতভাবে তামার দাম শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, এবারের মূল্যবৃদ্ধি মূলত বৈশ্বিক বাণিজ্যে কাঠামোগত অস্থিরতার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং তামা উত্তোলনে ব্যবহৃত রাসায়নিকের সরবরাহে বিঘ্ন—এই দুই বিষয়ই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, লন্ডন ধাতু এক্সচেঞ্জে তামার ফিউচার চুক্তির দাম প্রতি টন ১৪ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দাম শিগগিরই বছরের শুরুতে চীনে কেনার ঢেউয়ে তৈরি হওয়া ১৪,৫০০ ডলারের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোমেক্স এক্সচেঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসের তামার চুক্তি প্রতি পাউন্ড ৬.৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরের শুরু থেকে ১৭% এবং গত ১২ মাসে ৫০% বৃদ্ধি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পরিশোধিত তামা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। ৩০ জুন ঘোষণার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবিত শুল্ক ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫% এবং এক বছর পর ৩০% করার কথা। এ কারণে আমেরিকান আমদানিকারকরা দ্রুত মজুদ বাড়াচ্ছেন।
শুল্ক সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি তামা প্রবেশ করেছে, যা ২০১৪ সালের পর এক মাসে সর্বোচ্চ।
তামার বাজারে এই অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সামগ্রিক কড়াকড়ির অংশ। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৭ আগস্ট থেকে টাংস্টেন স্ক্র্যাপ ও লিথিয়াম ব্যাটারির বর্জ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে, যাতে স্থানীয় পুনর্ব্যবহার শিল্প শক্তিশালী হয় এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমে। একই সঙ্গে, সৌর প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টরে ব্যবহৃত পলিক্রিস্টালাইন সিলিকন পণ্যে ১৫% শুল্ক ও ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে, যা চীনা সৌরশক্তি কোম্পানির শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
