হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব সরবরাহে বড় ঝুঁকি
হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র।
মূল বিষয়
AIআন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এতে ১২টি কৌশলগত পণ্যের রপ্তানি কমেছে, আর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে জ্বালানি, পরিবহন, বীমা ও উৎপাদন খরচে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের যৌথ এজেন্সি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র আজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি ৯৫% এবং ইউরিয়া সার রপ্তানি ৮৩% কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে কিছুটা শান্তি ফিরে আসায় পুরোপুরি নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার আশা জেগেছে। তবে এখনও নৌ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম, আর কবে এবং কী শর্তে এটি পুরোপুরি খুলবে, তা অনিশ্চিত।
এছাড়া, জাপান—যারা তাদের ৯১% অপরিশোধিত তেল আমদানি করে এমন অর্থনীতি থেকে, যারা হরমুজ প্রণালী নির্ভর—তারা গত এপ্রিল মাসে মোট আমদানিতে ৬৪% কমতি দেখেছে।
কেন্দ্রটি জানিয়েছে, এই বিঘ্নের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু পণ্য পরিবহনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্বালানি, শিপিং, সামুদ্রিক জ্বালানি ও বীমা খরচ বেড়েছে, যা উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিকল্প পথে জাহাজ ঘুরিয়ে দেওয়ায় ডেলিভারির সময় বেড়েছে, বন্দরে ও অন্যান্য রুটে ভিড় বাড়ছে, যার ফলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তা দামে চাপ পড়ছে।
কেন্দ্রটি সতর্ক করেছে, সার খরচ বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যদামে প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দুর্বল অর্থনীতিগুলোতে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি, সার ও শিল্প কাঁচামালের সরবরাহের দুর্বলতা এবং একটি মাত্র সামুদ্রিক পথের ওপর নির্ভরশীলতা স্পষ্ট করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
