জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবের নতুন পরিকল্পনা
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নমনীয়তা ও বিকল্পের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী ও শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নমনীয়তা এবং নানা ধরনের বিকল্প ও উপায় তৈরি করা জরুরি। রিয়াদে চলমান ২৫তম বিশ্ব পেট্রোলিয়াম সম্মেলনের এক মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ৯০ বছরের বেশি সময়ে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব এই সম্মেলনের আয়োজন করছে, যা চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
আলোচনায় আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী এবং ওপেকের মহাসচিবও অংশ নেন। আলোচনার শুরুতেই প্রিন্স আবদুলআজিজ বলেন, সংকটের আগে থেকেই বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। কারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ যেকোনো সময় আসতে পারে, তাই দক্ষ ও সফলভাবে সাড়া দেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দশকে জ্বালানি খাত নানা সংকট সফলভাবে পার করেছে, যদিও সাম্প্রতিক সংকটগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর। বর্তমানে খাতটি নজিরবিহীন সময় ও প্রভাবের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভারসাম্য
শূন্য নিঃসরণ লক্ষ্য ও জ্বালানি খাতের পরিবর্তন নিয়ে প্রিন্স আবদুলআজিজ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন ও মূল্য স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করেন, অর্থনৈতিক ভিত্তি ও সরবরাহ নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করলে অপারেটিং খরচ ও জরুরি ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তিনি জানান, পেট্রোলিয়াম শিল্পে অগ্রণী দেশ হিসেবে সৌদি আরব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্যাটারি প্রযুক্তিতে বড় অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা, বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত চাহিদা মেটাতে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
সৌদি পাইপলাইনের উন্নয়ন
জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবের পাইপলাইনের ইতিহাস ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে বাদশাহ ফাহদের নির্দেশে পূর্ব-পশ্চিম কৌশলগত পাইপলাইন চালু হয়, যার লক্ষ্য ছিল রপ্তানির নতুন পথ তৈরি করা। ১৯৯০-এর দশকে এর দৈনিক পরিবহন ক্ষমতা ৫ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত হয়। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের সক্ষমতা ১০ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিকে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সৌদি আরবকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে।
আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া ও ওপেকের বক্তব্য
আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং দেশটির ওপর হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আলজেরিয়া জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে এবং ২০২৬ সালের জন্য নতুন অনুসন্ধান লাইসেন্স দেবে। বর্তমানে দেশটি তাদের খনিজ সম্পদের ৪৭% ব্যবহার করছে এবং ইউরোপীয় বাজারের সঙ্গে সংযোগ ও সাহারা অতিক্রমী গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে।
নাইজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী হেইকেন লোকপোবিরি সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন এবং নাইজেরিয়ায় বিনিয়োগ আকর্ষণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের কথা জানান।
ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল-গাইস বলেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস খাতে প্রায় ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তিনি সৌদি আরবের নীতিমালা ও বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের ভূমিকাকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত 'বিমা' হিসেবে উল্লেখ করেন।
