ইরানের সঙ্গে লেনদেনে বিদেশি ব্যাংকগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে গেলে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো সময় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
মূল বিষয়
AIযুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে গেলে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো সময় এবং পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি দ্রুত এসব কার্যক্রম ও সম্পর্ক বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন ইরানের আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে, বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, যার জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান এবং ইসরায়েলের লেবাননে হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সতর্কবার্তা জোরদার করেছে। তা না হলে এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশে সহায়তা করে— যেমন ইরানি ব্যাংক, তাদের সহযোগী বা অন্য দেশে তাদের শাখাকে আর্থিক সেবা দেয়— তারা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত খাতে কাজ করলে বা সেগুলোকে সহায়তা করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
এছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের কারণে কোনো মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মার্কিন নাগরিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে, সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে বেসামরিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কঠোর শর্তের মধ্যে রয়েছে— নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কার্যক্রমে জড়িত বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে করেসপন্ডেন্ট অ্যাকাউন্ট বা 'ইন্টারমিডিয়ারি পেমেন্ট' অ্যাকাউন্ট খোলা বা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
