সৌদি শেয়ারবাজারে ৫০% ক্ষতিতে বড় শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য প্রকাশের প্রস্তাব
সৌদি শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ কোম্পানির শেয়ার মূলধনের ৫০% ক্ষতি হলে বড় শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য প্রকাশের প্রস্তাব দিয়েছে। মতামত চেয়েছে ৩০ দিনের জন্য।
মূল বিষয়
AIসৌদি আরবের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সকল বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের কাছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন ও শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রকল্প নিয়ে মতামত চেয়েছে। এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সময়সীমা ৩০ দিন, যা শেষ হবে ২০২৬ সালের ২৮ নভেম্বর।
প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন ব্যবস্থা উন্নত করা, তাদের পরিচালনা পর্ষদের কার্যকারিতা ও দায়িত্ব বাড়ানো, শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়ানো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা। এ জন্য সাধারণ সভা, পরিচালনা পর্ষদে সদস্য মনোনয়ন, অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন সংক্রান্ত নিয়মাবলি উন্নত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে— সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার বাড়ানো। এতে বলা হয়েছে, যেসব শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির ভোটাধিকারযুক্ত অন্তত ৫% শেয়ার ধারণ করেন, তারা চাইলে সাধারণ সভা সরাসরি ও ভার্চুয়াল উভয়ভাবে অনুষ্ঠানের দাবি করতে পারবেন এবং পরিচালনা পর্ষদকে সে দাবি মানতে হবে। এছাড়া, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ কোম্পানিকে সাধারণ সভা সরাসরি অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারবে।
এছাড়া, যেসব কোম্পানির মোট মূলধনের ৫০% বা তার বেশি ক্ষতি হয়েছে, তাদের জন্য বাড়তি সুশাসন ও তথ্য প্রকাশের বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায়, 'তাদাউল সৌদি' ওয়েবসাইটে ১% বা তার বেশি শেয়ারধারী বা সর্বোচ্চ ২০ জন বড় শেয়ারহোল্ডারের নাম ও শেয়ারহোল্ডিং প্রকাশ করতে হবে— যেটি বেশি। পাশাপাশি, ৫% বা তার বেশি শেয়ারধারীরা চাইলে ক্ষতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দিতে পারবেন এবং তা সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের ৬০ দিনের মধ্যে 'তাদাউল সৌদি'তে প্রকাশ করতে হবে। পরিকল্পনা প্রকাশের পর, পরিচালনা পর্ষদকে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে, যাতে লক্ষ্য অর্জনের অগ্রগতি, কোনো বিচ্যুতি ও তার কারণ এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ থাকবে। এসব শর্ত তখন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, যতদিন না কোম্পানির ক্ষতি মূলধনের ২০%–এর নিচে নামে।
এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সংজ্ঞা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং নিরীক্ষা কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব জোরদার করেছে, যাতে স্বার্থের সংঘাত কমে ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষিত হয়।
প্রকল্পে পরিচালনা পর্ষদে সদস্য মনোনয়নের নিয়মও উন্নত করা হয়েছে। মনোনয়ন কমিটিকে মনোনয়ন প্রত্যাখ্যানের কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে এবং প্রার্থীদের ঘাটতি পূরণের সুযোগ দিতে হবে। এতে প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, নিরীক্ষা কমিটির স্বাধীনতা বাড়াতে কমিটির সভাপতিকে অবশ্যই স্বাধীন সদস্য হতে হবে এবং স্বার্থের সংঘাত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের নিয়ম উন্নত করা হয়েছে, যাতে অভ্যন্তরীণ তদারকি ও সুশাসন আরও কার্যকর হয়।
