মেসির আন্তর্জাতিক অবসর: মায়ের কান্না, স্ত্রীর গর্ব
লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় তার পরিবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া—মা কাঁদলেন, স্ত্রী স্মরণ করলেন ২১ বছরের পথচলা।
মূল বিষয়
AIলিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণার পর তার পরিবারে দেখা দিয়েছে মিশ্র অনুভূতি। মেসির মা সেলিয়া মারিয়া কুচেত্তিনি ছেলের ক্যারিয়ারের ইতি টানায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেছেন তার ২১ বছরের দীর্ঘ যাত্রা।
সোমবার মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন। তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে আর্জেন্টিনা ০-১ গোলে স্পেনের কাছে হেরে যায়।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ১২৫টি গোল এবং ৬৮টি অ্যাসিস্ট। তিনি দলকে বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা এনে দিয়েছেন।
মেসি বলেন, অবসর নেওয়া ‘খুবই কষ্টের সিদ্ধান্ত’, তবে তিনি মনে করেন, ‘এটাই সঠিক সময়’, বিশেষ করে সম্প্রতি তার বাবার মৃত্যুর পর। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি, এর বেশি কিছু দেওয়ার নেই।’
মেসির মা: এখনও কাঁদছি
মেসির মা জানিয়েছেন, ছেলের সিদ্ধান্তে পরিবার কতটা আবেগপ্রবণ হয়েছে। তিনি আগেই জানতেন মেসি অবসর নেবেন, তবু ঘোষণার পর আবেগ সামলানো কঠিন ছিল।
সেলিয়া মারিয়া কুচেত্তিনি আর্জেন্টিনার আমেরিকা টিভিকে বলেন, ‘আমি এখনও কাঁদছি। আমরা আগেই জানতাম (সিদ্ধান্ত), তবু পুরো পরিবার খুবই দুঃখিত। তবে সবচেয়ে জরুরি, সে যেন সুখী থাকে।’
তিনি আরও স্মরণ করেন, তার প্রয়াত স্বামী হোর্হে মেসি বলতেন, ‘ও খেলা ছেড়ে দিলে আমি কী করব?’ সবকিছু একসঙ্গে ঘটে গেল, এটা অবিশ্বাস্য।’
স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো কী বললেন?
অন্যদিকে, আন্তোনেলা রোকুজ্জো মেসির জাতীয় দলের পথচলার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেছেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মেসি স্বপ্ন পূরণ করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, ‘অনেক বছর, অসংখ্য মুহূর্ত, অগণিত আনন্দ, আবার অনেক বাধাও। দেখেছি, তুমি কষ্ট পেয়েছ, পড়ে গেছ, আবার উঠে দাঁড়িয়েছ। যখন কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছিল না, তখনও তুমি চেষ্টা চালিয়ে গেছ। এত বছরের শেষে আমি সৌভাগ্যবান, তোমাকে স্বপ্ন পূরণ করতে দেখেছি, আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনগুলো কাটিয়েছি।’
রোকুজ্জো আরও জানান, তাদের সন্তানরাও বাবার এই যাত্রার সাক্ষী হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই গল্পের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হলো—আমাদের সন্তানরা নিজের চোখে দেখেছে। তারা দেখেছে, তাদের বাবা নিজের লক্ষ্যের জন্য লড়ছে, কখনও হাল ছাড়েনি, শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছে। তারা তোমাকে সব শিরোপা জিততে ও বিশ্বকাপ হাতে তুলতে দেখেছে। হয়তো একদিন তারা বুঝবে, তোমার গল্প কতটা অসাধারণ।’
তিনি তার বার্তা শেষ করেন এই বলে, ‘তোমার পাশে থেকে এই যাত্রা ভাগাভাগি করতে পারা কত বড় সৌভাগ্য! আমাদের ভালোবাসা তোমার জন্য সীমাহীন।’
