সংকটের মাঝেও ঘরোয়া উদ্যোগে সুদানিজ নারীদের দৃঢ়তা
যুদ্ধের মধ্যেও সুদানিজ নারীরা সমাজ রক্ষায় ও আয়ের উৎস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, অংশ নিয়েছেন স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
মূল বিষয়
AIআরব বার্তা সংস্থাগুলোর ইউনিয়নের নারী সাংবাদিকতা সেবার অংশ হিসেবে সুদান বার্তা সংস্থার নারী বিষয়ক বুলেটিনে সুদানিজ নারীদের জনজীবন ও কর্মক্ষেত্রে অবদান এবং ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ সুদানিজ নারীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী বাস্তবতা ও দ্বিগুণ দায়িত্ব নিয়ে এসেছে। পরিবার দেখাশোনার পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে ও সংকট মোকাবিলায় নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করতে হয়েছে।
সুদানিজ নারীরা ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সমবায় রান্নাঘর পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তারা স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রেখেছেন, অর্থনৈতিক ও উৎপাদনশীল প্রকল্প শুরু করেছেন। অনেকেই ছোট ছোট ঘরোয়া উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পণ্য বিপণন করছেন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, গত শতকের শুরুতে মেয়েদের শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সুদানিজ নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। পেশাগত ও আইনসভা খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল ৩০%। বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ১৪.৫%।
যুদ্ধের প্রভাব ও ত্রাণে নারীদের ভূমিকা
যুদ্ধের কারণে কারখানা, বাজার ও অবকাঠামো বন্ধ হয়ে যায়, বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয় এবং আয়ের উৎস হারিয়ে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে নারীরা ত্রাণমূলক উদ্যোগ, সমবায় রান্নাঘর ও ছোট ছোট খাদ্য ও হস্তশিল্প প্রকল্প শুরু করেন, যা পরিবার ও বাজারকে সচল রাখতে সহায়তা করেছে।
স্বাস্থ্য খাতে নারী চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও শরণার্থী শিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
যুদ্ধের সময় গণমাধ্যমে সুদানিজ নারীর দৃঢ়তা
ওমদুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের অধ্যাপক ড. সালওয়া হাসান সিদ্দিক বলেন, যুদ্ধের সময় সুদানিজ নারী সাংবাদিকরা সচেতনতা তৈরিতে এবং ঘটনাবলী তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যদিও পেশাগত ও পারিবারিক চাপে ছিলেন। তিনি জানান, তারা সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমে কাজ চালিয়ে গেছেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে আলোচনা ও সচেতনতা বাড়িয়েছেন।
সুদানিজ নারীদের গণমাধ্যমে উপস্থিতি পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকেই রয়েছে, তখন থেকেই তারা সাংবাদিকতা ও চিন্তাচর্চায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।
ব্যবসায়ী নারীদের উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক ভূমিকা
সুদান চেম্বার অব কমার্সের অর্থনৈতিক পরিষেবা বিভাগের উপপ্রধান সামিয়া শাবু জানান, বাস্তুচ্যুত হয়েও ব্যবসায়ী নারীরা তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, খাদ্য ও হস্তশিল্পে নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন এবং সীমিত সুযোগেও নতুন বাজার খুঁজে পেয়েছেন।
শাবু বলেন, নারীদের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ী নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সামাজিক উদ্যোগেও সহায়তা করেছেন। তিনি নারীদের উৎপাদনশীলতা ফিরিয়ে আনতে অর্থায়ন, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, সুদানিজ নারী শুধু যুদ্ধের সাক্ষী নন, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রা পরিচালনা, সামাজিক বন্ধন রক্ষা ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন।
