ইতালি-স্পেন শেনগেন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা
অবৈধ অভিবাসন সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। গতকাল সেউতায় শত শত অভিবাসী প্রবেশের পর এ ঘোষণা আসে।
মূল বিষয়
AIঅবৈধ অভিবাসন সংকটের কারণে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। গতকাল সেউতায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর আল-আরাবিয়া চ্যানেল এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শত শত অবৈধ অভিবাসীর সেউতায় প্রবেশের ঘটনায় স্পেনের শেনগেন সদস্যপদ স্থগিতের আহ্বান জানান। "এক্স" প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, তার সরকার ব্যতিক্রমী কিছু পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যার মধ্যে স্পেনের সঙ্গে শেনগেন চুক্তি স্থগিতের প্রস্তুতিও রয়েছে।
মেলোনি বলেন, সেউতায় আসা অভিবাসীদের ছবি ছিল "চমকপ্রদ"। তিনি জানান, অনেকেই, এমনকি শিশুরাও, সাঁতরে শহরে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্পেন সরকারের সিদ্ধান্তে ৫ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে স্পেন ও ইউরোপীয় নাগরিকত্ব দেওয়া "গুরুতর ভুল", যা মানবপাচারকে উৎসাহিত করেছে।
এদিকে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী লীগ পার্টির নেতা মাত্তেও সালভিনি শেনগেন চুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানান এবং ইউরোপের সীমান্ত রক্ষার কথা বলেন।
স্পেনের দৈনিক এএস-এর বরাতে জানা গেছে, সেউতা সংকটের প্রেক্ষাপটে ইতালির দাবিকে সমর্থন দিয়েছে ফিনল্যান্ডও।
সেউতায় নজিরবিহীনভাবে অভিবাসীদের ঢল নামার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে। এই সংকটের প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শেনগেন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছে। এটি উত্তর মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহরটির ইতিহাসে অন্যতম বড় ঢল, যা আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রধান স্থলপথ প্রবেশদ্বার।
স্পেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছে তারা, এপি বার্তা সংস্থা জানায়।
এদিকে, অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে মাদ্রিদ। কারণ মরক্কো থেকেই মূলত সেউতায় অভিবাসীরা প্রবেশ করে। সেউতা ও মেলিল্লা আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রধান স্থল প্রবেশদ্বার।
মানবিক বিপর্যয় ও চাপ
শহরে প্রবেশের চেষ্টার সময় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৮ জন অভিবাসী মারা গেছে—এর মধ্যে ডুবে যাওয়া ও হুড়োহুড়িতে পদদলিত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বড় আকারের অভিবাসী ঢলের কারণে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে, এপি জানিয়েছে।
শহরে অভিবাসীদের এত বড় ঢল সামাল দিতে স্বল্প সময়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
