ইরান ইস্যুতে সব বিকল্প নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা
এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলাসহ সব বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মূল বিষয়
AIএক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বুধবার রাতে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁদের বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ, অর্থনৈতিক চাপ এবং শক্তি ব্যবহারের সব পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ওই কর্মকর্তা মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে দুই নেতার বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানাননি যে, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পক্ষপাতী।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আলোচনায় তিনটি বিকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে— আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা, অব্যাহত অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ, এবং ব্যাপক সামরিক হামলা। কর্মকর্তার ভাষ্য, নেতানিয়াহু এসব বিকল্পের বাইরে নতুন কিছু ধারণাও দিয়েছেন, তবে তা স্পষ্ট করেননি।
বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নতুন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার পরিকল্পনার কিছু তথ্য ফাঁস করেছেন। ওই তথ্য ছিল বিখ্যাত পিকাক্স মাউন্টেনের একটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে, যেটি ধ্বংস করতে ট্রাম্প হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
কর্মকর্তা কোনো ধরনের টানাপোড়েনের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুই মিত্র দেশ সহজেই গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করে এবং নেতানিয়াহু কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ানোর জন্য চাপ দেননি। পাশাপাশি, কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পই 'বড় অংশীদার' এবং নেতানিয়াহু 'ছোট অংশীদার'।
তিনি আরও বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী মূল্যস্ফীতি ও জনঅসন্তোষে অস্থির হয়ে পড়েছে— এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বুধবার তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর থেকে সবচেয়ে বড় উত্থান। ওই হামলার জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমান হামলায় ইসরায়েল অংশ নেয়নি, যা দুই সপ্তাহ ধরে চলে এবং এর জবাবে তেহরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তবে ইসরায়েল তেহরানকে সতর্ক করেছে, তাদের ওপর হামলা হলে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের কাছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই সবচেয়ে বড় হুমকি। তারা নিশ্চিত হতে চায়, তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে, তারা পারমাণবিক বোমা বানাতে চায় না।
