মালয়েশিয়ার ইসরায়েল নীতির ব্যাখ্যা চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত তলব
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েল নিয়ে কুয়ালালামপুরের অবস্থান জানতে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মূল বিষয়
AIমালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব নিয়ে কুয়ালালামপুরের অবস্থান জানতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকুব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের নীতি নতুন কিছু নয়।
তিনি আরও বলেন, "এটাই বরাবর মালয়েশিয়ার নীতি। আমাদের অভিবাসন নীতিতেও ইসরায়েল বা সিয়োনিস্ট রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এটাই আমাদের অবস্থান।"
বারনামা বার্তা সংস্থাকে মোহাম্মদ হাসান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে, "একজন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের—ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। পরে তদন্তে জানা যায়, তার ইসরায়েলি নাগরিকত্বও আছে। এরপর তাকে দেশ ছাড়তে বলা হয়।"
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে রয়টার্স।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত মার্কিন বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসানের 'ডিজিটাল নোম্যাড' কমিউনিটি 'স্কোল' নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, এতে ইসরায়েলি অংশগ্রহণকারীরাও আছেন।
ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটি বরাবরই ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে।
এ ঘটনার পর মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ 'স্কোল' কমিউনিটির সদস্যদের তদন্ত করে দেখতে পায়, তাদের সবার বৈধ ভ্রমণ নথি আছে। তারপরও, মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ কমিউনিটিটি বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের আট সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি দিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ইসরায়েলি নাগরিকদের শনাক্ত ও দ্রুত বহিষ্কারের পরিকল্পনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তারা যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়া, তারা পররাষ্ট্র দপ্তরকে আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন, যা মালয়েশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য পেশাদার মার্কিন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে। এই সিদ্ধান্ত ১৫ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে অর্থায়ন বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
