ইরানি পরিকল্পনায় হুথি হামলা, বিশ্ব বাণিজ্য ঝুঁকিতে: ইয়েমেনি মন্ত্রী
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, হুথি ও ইরানি বিপ্লবী গার্ডের হুমকি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে উঠেছে।
মূল বিষয়
AIইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-ইরিয়ানি বলেছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হুমকি এখন আর শুধু ইয়েমেন বা এই অঞ্চলের জন্য সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরার জন্য সরাসরি হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
ইরিয়ানি আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা—সবকিছুই ইরানি পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা দুর্বল করা, আন্তর্জাতিক সমাজকে চাপে ফেলা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহকে নজিরবিহীন ঝুঁকিতে ফেলা। এই তথ্য ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হুথি হামলা ইরানের প্রকল্পকে লোহিত সাগরে আরও সাহসী ও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে এই কৌশলগত সামুদ্রিক পথকে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের হাতিয়ার বানাচ্ছে তেহরান—যখনই তারা কোনো সংকট বা চাপের মুখে পড়ে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই আচরণ ইরানি বিপ্লবী গার্ডের সেই নীতি প্রতিফলিত করে, যেখানে তারা আঞ্চলিক দোসরদের ব্যবহার করে স্থিতিশীলতা নষ্ট, নৌ চলাচল হুমকির মুখে ফেলা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নিত করে—এতে সাধারণ মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
ইরিয়ানি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে, হুথি হুমকি মোকাবিলা শুধু সাময়িক প্রতিক্রিয়া বা সীমিত পদক্ষেপে সম্ভব নয়; বরং দরকার একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক কৌশল, যাতে সমুদ্র নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানো, প্রতিরোধ শক্তি জোরদার, হুথিদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস বন্ধ এবং ইরানকে দোসর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সমাজকে চাপে ফেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হুমকির মুখে ফেলা থেকে বিরত রাখা যায়।
তিনি আরও বলেন, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালীর নিরাপত্তা শুধু সমুদ্রে জাহাজ রক্ষার মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং মূল হুমকির উৎস স্থলভাগে, তাই ইয়েমেনি রাষ্ট্র ও বৈধ প্রতিষ্ঠানকে সমর্থন ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা পুরোপুরি ভূমি ও উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং হুথিদের দখলে থাকা উপকূলীয় অঞ্চল, যেগুলো থেকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল হুমকির মুখে পড়ছে, তা মুক্ত করা যায়। তিনি বলেন, ইয়েমেনি রাষ্ট্র পুনরুদ্ধার শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরিয়ানি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন, যা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজে হামলার মাধ্যমে এই পথকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের বিরুদ্ধে চাপের হাতিয়ার বানাতে চায়। ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারার ভিত্তিতে তারা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান এই ধারার ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইরানকে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সামরিক বাধা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ কিন্তু ওয়াশিংটনের মতে, ইরান এই ধারার অপব্যাখ্যা করছে।
