থাইল্যান্ডের স্কুলে গুলিবর্ষণ, শিক্ষক নিহত
থাইল্যান্ডের এক স্কুলে ছাত্রের গুলিতে অন্তত একজন শিক্ষক নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মূল বিষয়
AIথাইল্যান্ডের একটি স্কুলে এক ছাত্র গুলি চালালে অন্তত একজন শিক্ষক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবারের এই ঘটনার খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে।
থাইল্যান্ডের অন্যতম প্রধান উদ্ধারকারী সংস্থা 'পোহ টেক টুং' জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে দুইজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, "পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।"
ঘটনাটি ঘটেছে 'ডিপসিরিন ননথাবুরি' স্কুলে, যা প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একটি পরিচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে, ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই এলাকায়, রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে অবস্থিত।
ননথাবুরি জেলা পুলিশের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডিচাপ্রি কংডি রয়টার্সকে জানান, সন্দেহভাজন গুলিবর্ষণকারী আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই ছাত্র।
থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো সিএনএন-কে জানিয়েছে, "এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।"
রয়টার্স জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন শিক্ষক ও তিনজন ছাত্র রয়েছেন।
৭ আগস্ট ২০২৬, ব্যাংককের উপকণ্ঠে ডিপসিরিন ননথাবুরি স্কুলের বাইরে জরুরি বিভাগের কর্মীরা কাজ করছিলেন।
স্কুলের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের কাছে জরুরি বিভাগের কর্মীদের দেখা যায়, যেখানে উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সহায়তা করছিলেন।
সিএনএন যাচাই করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে এবং একজন কর্মী তাদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করছেন।
জরুরি বিভাগের কর্মীরা স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রয়টার্সের একটি ছবিতে দেখা যায়, একজনকে স্ট্রেচারে শুইয়ে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে রাখা হয়েছে এবং আরেকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি।
২০১৭ সালের 'স্মল আর্মস সার্ভে'র তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বেসামরিক নাগরিকদের হাতে ১ কোটি ৩ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১৫টি অস্ত্র।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ' ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রজনিত হত্যার দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়, ফিলিপাইনের পরেই।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই এলাকায় এক বন্দুকধারীর গুলিতে এক শিক্ষক নিহত ও এক ছাত্র আহত হয়েছিলেন।
২০২২ সালে, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে হামলায় ২৪ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হন, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচিত।
